নারীদের অলংকার পরিধান বহু যুগের প্রচলিত একটি রীতি।
ইসলামও বৈধ সীমার মধ্যে নারীদের সৌন্দর্যচর্চা ও অলংকার ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে অনেকের প্রশ্ন, অলংকার পরার জন্য নাক বা কান ফোঁড়ানো কি ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক, নাকি এটি কেবল একটি বৈধ সামাজিক প্রথা?
ইসলামী শরিয়তের আলোচনায় অধিকাংশ ফকিহের মত হলো, অলংকার পরিধানের উদ্দেশ্যে নারীদের কান ফোঁড়ানো জায়েজ। একইভাবে, যেসব সমাজে নাকে অলংকার পরার প্রচলন রয়েছে, সেখানে নাক ফোঁড়ানোর বিষয়টিও বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
তবে এটি কোনো ইবাদত বা আবশ্যক ধর্মীয় বিধান নয়।
এ বিষয়ে আলেমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত একটি সহিহ হাদিসের কথা উল্লেখ করেন।
সেখানে ঈদের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের সদকার প্রতি উৎসাহিত করলে তারা নিজেদের কানের দুল ও অন্যান্য অলংকার খুলে হজরত বিলাল (রা.)-এর কাপড়ে দান করেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, নারী সাহাবিদের কানে অলংকার ছিল এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) তা নিষিদ্ধ করেননি।
অন্যদিকে, নাক ফোঁড়ানো নিয়ে কুরআন বা সহিহ হাদিসে পৃথক কোনো নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় না। তাই অনেক আলেমের মতে, বৈধ অলংকার ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এবং সমাজে স্বীকৃত রীতি হিসেবে নাক ফোঁড়ানোও জায়েজ হতে পারে।
সমাজে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো, নাক বা কান না ফোঁড়ালে আখিরাতে শাস্তি হবে কিংবা এটি ইসলামের বাধ্যতামূলক বিধান। ইসলামী সূত্র অনুযায়ী, এ ধরনের দাবির পক্ষে কুরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
আলেমদের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে, নাক-কান ফোঁড়ানো ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নয়। ফলে কেউ এটি করলে গুনাহগার হবেন না, আবার না করলেও তার ওপর কোনো পাপ বর্তাবে না।
তবে অলংকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো— তা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে, অহংকার বা অপচয়ের কারণ না হয় এবং পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা হয়। একই সঙ্গে পর্দা ও ইসলামী আদর্শ মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লোকমুখে প্রচলিত কথা বা কুসংস্কারের পরিবর্তে কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহি ব্যাখ্যার অনুসরণ করাই একজন মুসলিমের জন্য উত্তম।
এসআর