পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অনেকেই পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সাথে মিলে যৌথভাবে কুরবানি দিয়ে থাকেন। তবে কুরবানিতে শরিক হওয়ার শরিয়তি নিয়ম সঠিকভাবে না জানার কারণে অনেক সময় ভুল
পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, একটি বড় পশুতে (গরু, মহিষ বা উট) সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি শরিক হতে পারেন। যদি দুই গরুতে চারজন, পাঁচজন বা সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি শরিক হন এবং প্রত্যেকে উভয় গরুতে অংশীদার থাকেন, তবে তাদের কুরবানি শুদ্ধ হবে।
কিন্তু শরিকের সংখ্যা যদি সাতজনের বেশি (যেমন ৮, ৯ বা ১০ জন) হয়ে যায় এবং তারা উভয় গরুতে একসঙ্গে শরিক হন, তবে কারও কুরবানিই সহিহ হবে না। কারণ, শরিয়ত অনুযায়ী কোনো বড় পশুতে একজনের অংশ এক-সপ্তমাংশের (১/৭) কম হওয়া বৈধ নয়।
এরূপ পরিস্থিতিতে কুরবানি শুদ্ধ করার সঠিক নিয়ম হলো—শরিকদের সংখ্যা অনুযায়ী প্রতি গরুর জন্য আলাদা আলাদা ব্যক্তি নির্ধারণ করা। উদাহরণস্বরূপ, যদি মোট শরিক আটজন হন, তবে উভয় গরুতে যৌথভাবে অংশীদার না হয়ে প্রতি গরুর জন্য চারজন করে শরিক আলাদা করে দিতে হবে।
একইভাবে দশজন হলে প্রতি গরুতে পাঁচজন করে নির্দিষ্ট শরিক থাকতে হবে। অর্থাৎ, প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দিষ্ট একটি পশুর মূল্য ও অংশের ভিত্তিতে শরিক হবেন। এই নিয়মে কুরবানি আদায় করলে সামাজিক গোশত বণ্টনের প্রথাও বজায় থাকবে এবং শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী সবার কুরবানিও সহিহভাবে সম্পন্ন হবে।
কুরবানি মূলত লোকদেখানো কোনো সামাজিক প্রথা নয়, এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-কাওসারের ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
অর্থ: ‘সুতরাং আপনি আপনার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।’
একইভাবে সুরা আল-হজের ৩৬-৩৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ... لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ
অর্থ: ‘আর কুরবানির উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি; এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে... আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত বা রক্ত; বরং তার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’
হানাফি মাজহাবের শরিয়তি বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে যাদের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদে সাড়ে সাত তোলা সোনা, সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ থাকে, তাদের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব।
যেহেতু ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো তা সঠিক নিয়মে আদায় করা, তাই প্রচলিত ভুল পদ্ধতি পরিহার করে শরিয়তের নির্ধারিত সীমা ও নিয়ম মেনে সচেতনতার সাথে কুরবানি সম্পন্ন করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
এসআর