বর্তমানে প্রচলিত ভোট ব্যবস্থার পরিবর্তে নবী যুগে নেতা নির্বাচন করা হতো মূলত নৈতিক
যোগ্যতা, আমানতদারিতা এবং জনগণের আস্থার ভিত্তিতে। মহানবী (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত মদিনা রাষ্ট্রের নেতৃত্বের মূল ভিত্তি ছিল ওহি, ন্যায়বিচার এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আনুগত্য।
নেতা নির্বাচনের মূল পদ্ধতিসমূহ
নবী যুগে এবং পরবর্তীতে সাহাবিদের সময় রাষ্ট্রপ্রধান বা নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ দিক অনুসরণ করা হতো:
বাইয়াত (আনুগত্যের অঙ্গীকার): নেতৃত্ব গ্রহণের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি ছিল 'বাইয়াত'। মদিনার মানুষ স্বেচ্ছায় রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে তাঁর নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন (যেমন: আকাবার বাইয়াত)।
পরামর্শভিত্তিক ব্যবস্থা (শূরা): গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বা সামরিক সিদ্ধান্তে রাসুল (সা.) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধের সময় তাঁর এই 'শূরা' বা পরামর্শ গ্রহণের নীতি স্পষ্ট হয়েছে।
যোগ্যতাই ছিল মানদণ্ড: বংশমর্যাদা বা সম্পদের চেয়ে তাকওয়া (আল্লাহভীতি), ন্যায়পরায়ণতা এবং সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। একারণেই হযরত বিলাল (রা.)-এর মতো সাবেক ক্রীতদাস কিংবা যুবক উসামা বিন যায়েদ (রা.)-কে উচ্চপদস্থ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
নেতৃত্বের অযোগ্যতা ও সতর্কতা
ইসলামী এই শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব লাভের জন্য কিছু বিষয়ের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা বা নিরুৎসাহ প্রদান করা হয়েছে:
১. ক্ষমতার লোভ: যারা নিজে থেকে নেতৃত্ব চাইতেন বা পদের প্রতি লালায়িত ছিলেন, রাসুল (সা.) তাঁদের দায়িত্ব দিতেন না। তিনি একে আমানত হিসেবে দেখতেন, ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়।
২. জবাবদিহিতা: নেতৃত্ব ছিল মূলত একটি দায়িত্ব, যা আল্লাহর কাছে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ছিল।
নবী যুগের শাসনব্যবস্থা ছিল অংশগ্রহণমূলক এবং নৈতিকতা-নির্ভর। সেখানে সংখ্যাধিক্য নয়, বরং গুণগত যোগ্যতাকে নেতা নির্বাচনের মাপকাঠি হিসেবে ধরা হতো।
এসআর
মন্তব্য করুন: