জীবন চলার পথে নানা কারণে মানুষ দুশ্চিন্তা বা হতাশায় নিমজ্জিত হতে পারে। তবে ইসলাম
আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ধৈর্যের সাথে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু বিশেষ আমল নিচে তুলে ধরা হলো:
হতাশা মুক্তির কার্যকরী আমলসমূহ:
কোরআন তেলাওয়াত: কোরআন তেলাওয়াত অন্তরের প্রফুল্লতার প্রধান উৎস। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত করে।
নিয়মিত নামাজ: বিপদ-আপদে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত। নামাজই মুমিনের প্রকৃত প্রশান্তির জায়গা।
তওবা ও ইস্তেগফার: যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তার সব সংকট দূর করে দেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন।
আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল): আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।" (সুরা তালাক)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিশেষ দোয়া:
যখনই কোনো দুশ্চিন্তা বা অস্থিরতা ঘিরে ধরবে, তখন এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করুন
উচ্চারণ: ইয়া- হাইয়্যু ইয়া- ক্বাইয়ূ-মু বিরাহমাতিকা আস্তাগিছ।
অর্থ: ‘হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার নিকটে সাহায্য চাই।’ (তিরমিজি)
এছাড়াও দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে নিচের দোয়াটি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসাল, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুব্নি, ওয়া দলায়িদ দাইনি, ওয়া গলাবাতির রিজাল। (বুখারি)
হতাশা কাটানোর জন্য কেবল আমল নয়, পাশাপাশি হালাল বিনোদন ও হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করাও জরুরি। মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার সব বিপদ-আপদ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা মাত্র। ধৈর্য ও দোয়ার মাধ্যমেই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব।
এসআর
মন্তব্য করুন: