ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় স্থান 'কুব্বাতুস সাখরা' বা 'ডোম অব
দ্য রক'। মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণের উত্তর দিকে জামে কিবলি মসজিদের ঠিক সম্মুখভাগে এই নয়নাভিরাম গম্বুজটি অবস্থিত। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, মেরাজের রাতে এই স্থান থেকেই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আসমান ভ্রমণ শুরু করেছিলেন।
স্থাপত্যশৈলী এবং আধ্যাত্মিক গুরুত্বের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই গম্বুজটির অভ্যন্তরীণ রূপ ও বৈশিষ্ট্যের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নির্মাণ
বর্তমানে আমরা যে আয়তনে গম্বুজটি দেখি, এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল হিজরি সপ্তম দশকে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের শাসনামলে। ধারণা করা হয়, ৭২ হিজরিতে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ওসমানীয় সুলতান সুলেমান আল কানুনীর আমলে এটি কারুকার্যময় টাইলস দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
২. অভ্যন্তরীণ অলংকরণ ও নকশা
গম্বুজটির ভেতরে রয়েছে দক্ষ কারুশিল্পীদের হাতে তৈরি চোখধাঁধানো মোজাইক, ক্যালিগ্রাফি এবং সোনালি নকশা। দুর্লভ সোনালী কাগজ ও মূল্যবান উপকরণ ব্যবহার করে এর অভ্যন্তরীণ অলংকরণ করা হয়েছে। এছাড়া ভবনটিতে ৫৬টি রঙিন কাচের জানালা রয়েছে, যা এর সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. সেই বরকতময় পাথর
গম্বুজের ঠিক নিচেই রয়েছে সেই ঐতিহাসিক পাথর, যেখান থেকে নবীজি (সা.) মেরাজের রাতে উর্ধ্বাকাশে গমন করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। যুগ যুগ ধরে মুসলিম শাসকদের কাছে এই স্থানটি বিশেষ মর্যাদা ও ভক্তির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
৪. ইবাদত ও সংস্কার
কুব্বাতুস সাখরা নিয়মিত সংস্কার কাজের আওতায় থাকে। তবে পবিত্র রমজান মাসে সংস্কার সরঞ্জাম সরিয়ে নারীদের নামাজের জন্য স্থানটি প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত রমজান মাস এবং শুক্রবারগুলোতে এখানে নারীরা নামাজ ও ইবাদত পালন করেন।
যুগ যুগ ধরে মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এই ডোম অব দ্য রক আজও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: