ইসলামি শরিয়তে নফল ইবাদতের মধ্যে রোজা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। বিশেষ করে রমজানের
পূর্ববর্তী মাস শাবানে বেশি বেশি রোজা রাখা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। আত্মশুদ্ধি এবং রমজানের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণে এই মাসের রোজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
শাবান মাসের রোজার ফজিলত ও হাদিস:
রাসুল (সা.)-এর আমল: উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো মাসে শাবানের মতো এত বেশি রোজা রাখতে দেখা যায়নি। তিনি শাবান মাসের প্রায় পুরোটা সময়ই রোজা রাখতেন। (সহিহ মুসলিম)।
রমজানের প্রস্তুতি: আলেমদের মতে, শাবান মাসে অধিকহারে রোজা রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার জন্য নিজেকে তৈরি করা। এটি রমজানের জন্য একটি 'ওয়ার্ম-আপ' বা প্রস্তুতিমূলক পর্যায় হিসেবে কাজ করে।
নিয়মিত আমলের গুরুত্ব: ইসলামে সেই আমলই আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় যা নিয়মিত করা হয়, পরিমানে তা অল্প হলেও। তাই শাবান মাসে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বিরতি দিয়ে বা নিয়মিত নফল রোজা রাখা উত্তম।
ইবাদতে ভারসাম্য রক্ষা:
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবাদতের ক্ষেত্রে সব সময় ভারসাম্যের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি এমন আমল করতে উৎসাহিত করেছেন যা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য না হয় এবং যা নিয়মিত পালন করা সম্ভব। তাই শাবান মাসে রোজা রাখার ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক সক্ষমতার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে রমজানের মূল ফরয রোজা পালনে কোনো দুর্বলতা তৈরি না হয়।
শাবান মাস হলো ইবাদতের বসন্তকাল। এই মাসে নফল রোজার মাধ্যমে নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। সুন্নতের অনুসরণে এই মাসে আমল করার মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা প্রকৃত তাকওয়া অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: