মানুষ হিসেবে শয়তানের প্ররোচনায় আমাদের দ্বারা ভুল বা পাপ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে
সচেতন প্রচেষ্টা ও ইসলামী জীবনবিধান অনুসরণের মাধ্যমে পাপ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে পাপ বর্জনের পাঁচটি বিশেষ উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কোনো পাপকেই তুচ্ছ মনে না করা
পাপ ছোট হোক বা বড়, তা সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতা। ছোট পাপ করতে করতে একসময় বড় পাপে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। হাদিসে রাসুল (সা.) ছোট ছোট গুনাহ থেকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ প্রতিটি কাজের হিসাব রাখার জন্য ফেরেশতা নিযুক্ত আছেন।
২. সৎ সঙ্গ অবলম্বন করা
মানুষের স্বভাব ও আচরণের ওপর সঙ্গীদের ব্যাপক প্রভাব থাকে। অসৎ সঙ্গ মানুষকে অন্যায়ের দিকে ধাবিত করে, আর সৎ সঙ্গ পুণ্য ও ন্যায়ের পথে রাখে। তাই মুমিন ও পরহেজগার ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।
৩. নিজের পাপ অন্যের কাছে প্রকাশ না করা
আল্লাহ তাআলা বান্দার পাপ অনেক সময় গোপন রাখেন এবং ক্ষমা করার সুযোগ দেন। কিন্তু মানুষ যখন নিজের পাপের কথা গর্ব করে বা অবলীলায় অন্যদের কাছে প্রকাশ করে, তখন তা ক্ষমার অযোগ্য হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নিজের ভুলগুলো গোপনে আল্লাহর কাছে স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
৪. পাপের পর নেক কাজ করা
যদি কোনো ভুল হয়েই যায়, তবে তাৎক্ষণিক অনুতপ্ত হয়ে কোনো ভালো কাজ করা উচিত। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী, সৎ কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়। তাই পাপের পাল্লা ভারী হওয়ার আগেই নেকির কাজ দিয়ে তা মুছে ফেলার চেষ্টা করতে হবে।
৫. নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফারের অভ্যাস
মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ হলো ভুলের পর পুনরায় আল্লাহর পথে ফিরে আসা।
শয়তান চায় বান্দা যেন নিরাশ হয়ে পড়ে, কিন্তু আল্লাহর রহমত অসীম।
তাই প্রতিনিয়ত তওবা করার অভ্যাস গড়ে তুললে অন্তর পঙ্কিলতা মুক্ত থাকে এবং পাপের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয়।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সচেতনভাবে জীবনযাপন করার এবং পাপমুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এসআর
মন্তব্য করুন: