মানুষের জীবনের পরম পাওয়া হলো সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আর আল্লাহর
সন্তুষ্টি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর ফয়সালা ও সিদ্ধান্তের ওপর মনে-প্রাণে সন্তুষ্ট থাকা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আল্লাহর প্রতি এই সন্তুষ্টির মনোভাবই একজন মুমিনকে প্রকৃত প্রশান্তি দান করে।
আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টির তাৎপর্য
বিখ্যাত মনিষী আল্লামা ইবনে আতা (রহ.)-এর মতে, আল্লাহ অনাদিকাল থেকে বান্দার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তার প্রতি হৃদয়ের গভীর থেকে তৃপ্ত থাকাই হলো প্রকৃত সন্তুষ্টি। মুমিন বিশ্বাস করে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, সেটিই তার জন্য সর্বোত্তম। এই বিশ্বাস মানুষকে হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়।
সন্তুষ্টির গুরুত্ব ও হাদিসের শিক্ষা
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আদম সন্তানের জন্য আল্লাহ যা ফয়সালা করে রেখেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকাই হলো তার সৌভাগ্য।” (সুনানে তিরমিজি)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, বিপদ যত বড় হয়, তার প্রতিদানও তত বড়। আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষা করেন। যারা সেই পরীক্ষায় সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হন।
সন্তুষ্টির তিনটি ধরন
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি তিনভাবে প্রকাশ পায়:
১. রব হিসেবে সন্তুষ্টি: আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ ও পালনকর্তা মেনে নেওয়া এবং কারো সঙ্গে তাঁকে শরিক না করা।
২. ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি: আল্লাহর প্রজ্ঞা ও সৃষ্টির কৌশলের প্রতি বিশ্বাস রাখা যে তিনি কখনো কারো প্রতি অন্যায় করেন না।
৩. সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি: জীবনের লাভ-ক্ষতি, জয়-পরাজয় ও সুখ-দুঃখে কোনো অভিযোগ না করে ধৈর্য ধারণ করা।
আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকার ৫টি উপায়
১. তাকদিরে বিশ্বাস: আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা অনিবার্য—এই বিশ্বাস লালন করা।
২. আত্মসমর্পণ: নিজের ভালো-মন্দ সব কিছু আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা। কোরআনে বলা হয়েছে, “যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট।” (সুরা তালাক: ৩)।
৩. কল্যাণ খোঁজা: অনেক সময় আমরা যা অপছন্দ করি, তার মধ্যেই আল্লাহ প্রভূত কল্যাণ নিহিত রাখেন। এই ইতিবাচক মানসিকতা রাখা।
৪. প্রতিদানের আশা: বিপদে ধৈর্য ধরলে আখেরাতে বড় পুরস্কার পাওয়া যাবে—এই আশা রাখা।
৫. দোয়ার আমল: নিয়মিত দোয়া করা, বিশেষ করে সকাল-সন্ধ্যায় “রাদীতু বিল্লাহি রাব্বান...” পাঠ করা।
সবর ও মানবিক অনুভূতি
আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টির অর্থ এই নয় যে মানুষের মনে দুঃখ বা চোখে পানি থাকবে না। স্বজন হারানোর বেদনা বা শারীরিক কষ্ট মানুষের স্বভাবজাত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পুত্র ইবরাহিমের মৃত্যুর সময় তিনি কেঁদেছিলেন এবং বলেছিলেন, “চোখ অশ্রু ঝরায়, হৃদয় ব্যথিত হয়, কিন্তু আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের পালনকর্তা পছন্দ করেন।” অর্থাৎ, কষ্টের অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করাই হলো প্রকৃত সন্তুষ্টি।
পরিশেষে, জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করতে আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা অপরিহার্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এসআর
মন্তব্য করুন: