[email protected] শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৃষ্টিতে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ৯:০৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মানুষের দৃষ্টিতে “সেরা” হওয়ার মানদণ্ড সাধারণত সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক প্রভাবকে ঘিরে আবর্তিত হয়।

কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল্লাহর রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করেছেন নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের আলোকে—বিশেষ করে ঋণ পরিশোধে সততা ও সৌন্দর্যপূর্ণ আচরণকে তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন।


যে ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ সময়মতো, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং সুন্দর আচরণে পরিশোধ করে—নবীজি (সা.) তাকে সর্বোত্তম মানুষের কাতারে স্থান দিয়েছেন। এটি কেবল আর্থিক শৃঙ্খলার শিক্ষা নয়; বরং ঈমানদারি, আমানতের হেফাজত এবং আখিরাতের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।


রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন—
إِنَّ خِيَارَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً
“তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে ঋণ পরিশোধে সবচেয়ে সুন্দর আচরণ করে।”


(সহিহ বুখারি: ২৩০৫)
কুরআনের আলোকে ঋণের গুরুত্ব
কুরআনে ঋণ সংক্রান্ত যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা ইসলামে এর গুরুত্ব কত গভীর—তার স্পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ
“হে মুমিনগণ! তোমরা যখন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো।”
(সুরা আল-বাকারা: ২৮২)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ঋণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও সময়ানুবর্তিতা ইসলামের মৌলিক দাবি।


ঋণ পরিশোধে অবহেলার পরিণতি
ইসলাম ঋণ পরিশোধে গাফিলতাকে শুধু সামাজিক অন্যায় হিসেবেই দেখে না; বরং এটিকে গুরুতর নৈতিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নবীজি (সা.) বলেছেন—
مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ
“সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে দেরি করা জুলুম।”
(সহিহ বুখারি: ২৪০০, সহিহ মুসলিম: ১৫৬৪)
ঋণ ও আখিরাতের সম্পর্ক
ঋণ মানুষের মৃত্যুর পরও তার মুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে কঠোর সতর্কতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّىٰ يُقْضَىٰ عَنْهُ
“ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত মুমিনের আত্মা ঝুলে থাকে।”


(তিরমিজি: ১০৭৮)
একজন মুমিনের করণীয়
ঋণ বিষয়ে ইসলামের শিক্ষা আমাদের জীবনে বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি—
প্রয়োজন ছাড়া ঋণ গ্রহণ না করা
ঋণ নিলে সময়মতো পরিশোধের দৃঢ় সংকল্প রাখা
সামর্থ্য হলে দ্রুত শোধ করা
বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে পরিশোধ করা
লিখিত চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করা
মৃত্যুর আগে সব দেনা পরিশোধের চেষ্টা করা


নবীজি (সা.) যখন কাউকে “সর্বসেরা” বলেন, তা কোনো সামাজিক মর্যাদা বা বাহ্যিক অর্জনের স্বীকৃতি নয়; বরং এটি ঈমানের গভীরতার পরিচয়। যে ব্যক্তি মানুষের হক রক্ষা করে, ঋণ নিয়ে অবহেলা করে না এবং সুন্দরভাবে তা পরিশোধ করে—সে দুনিয়াতে সম্মানিত এবং আখিরাতে নিরাপদ।


আজ আমাদের সামনে প্রশ্ন—আমরা কি শুধু নেওয়ার মানুষ হব, নাকি দায়িত্ব পালনের মানুষও হব? মনে রাখতে হবে, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ঘোষণায় সর্বশ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে ঋণ পরিশোধে উত্তম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের তৌফিক দান করুন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর