[email protected] শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

যানজট ও যানবাহনের তাপ: উত্তপ্ত হচ্ছে শহর, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৫৫ এএম

বিশ্বজুড়ে শহরগুলোর তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি যানবাহনের ভূমিকা এখন স্পষ্ট। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু তীব্র তাপপ্রবাহ নয়, প্রতিদিনের যানজট ও গাড়ির ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপও শহরের বাতাসকে অস্বাভাবিকভাবে গরম করে

 তুলছে। 'জার্নাল অব অ্যাডভান্সেস ইন মডেলিং আর্থ সিস্টেমস'-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার এবং ফ্রান্সের তুলুজ শহরের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

​গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যানবাহনের কারণে গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা প্রায় ০.২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং শীতকালে ০.৬৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়ে যায়। শুনতে সামান্য মনে হলেও, শহর যখন আগে থেকেই তপ্ত থাকে, তখন এই বাড়তি তাপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। গাড়ির ইঞ্জিন, এক্সহস্ট পাইপ, ব্রেক এবং টায়ার থেকে নির্গত শক্তি সরাসরি রাস্তার পাশের বাতাসে মিশে যায় এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ভবনগুলো সেই তাপ আটকে রাখে।

​এই তাপের প্রভাব শুধু রাস্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি প্রবেশ করছে ঘরের ভেতরেও। গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যানচেস্টারে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় ০.০৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং তুলুজে ০.৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মানুষের অস্বস্তি বাড়ার পাশাপাশি কুলিং সিস্টেম বা এসির ব্যবহার বাড়ছে, যা পরোক্ষভাবে বিদ্যুৎ খরচ ও পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে।

​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের সরু রাস্তা, অপরিকল্পিত ভবন এবং সবুজের অভাব এই তাপ আটকে রাখতে সহায়তা করে। তবে সব গাড়ি সমানভাবে তাপ ছড়ায় না। পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির তুলনায় বৈদ্যুতিক গাড়ি অনেক কম তাপ উৎপন্ন করে।

তাই ভবিষ্যতের তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কার্যকর নগর পরিকল্পনা, যানজট নিরসন, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। ড. ঝংহুয়া ঝেং-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি ভবিষ্যতে শহরের তাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর