[email protected] বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশের লোকজনের পকেটে ফিরতি টিকিট থাকে: হাসনাত আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬:২৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন,

 প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশের লোকজনের পকেটে সবসময় ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট থাকে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে মোহাম্মদপুরে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

​তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যারা আছেন, হয় তারা দ্বৈত নাগরিক, নয়তো তাদের বিদেশের ভিসা রয়েছে অথবা পকেটে সবসময় ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট থাকে। অতীতেও তাদের দেখা যায়নি, ভবিষ্যতেও দেখা যাবে না। দেশে কোনো সংকট তৈরি হলেই তারা এই টিকিটের মাধ্যমে আগের জায়গায় চলে যাবেন।

​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশপাশে লন্ডন থেকে কিছু মানুষ যুক্ত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা নিজেরাও জানেন যে দুই বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। সাধারণ মানুষ ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হলেও প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজন পাবলিকের সামনে না এসে সুযোগ বুঝে লুটেপুটে বিদেশে যাওয়ার বন্দোবস্ত করছেন।

​আইনশৃঙ্খলা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা এমন পর্যায়ে গেছে যে এখন নিরাপত্তার জন্য প্রতিমন্ত্রীকেও অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে। যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঠিকমতো কাজ করত, তবে প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র হাতে নামতে হতো না। সরকার প্রকৃত দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় না এনে বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর দায় চাপিয়ে আইওয়াশ করার চেষ্টা করছে।

​তিনি মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, মিথ্যা কথা বলে সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করা এবং নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজ বাদ দিয়ে অন্য এজেন্ডা নিয়ে কাজ করার অভিযোগে তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। এ সময় তিনি বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন এবং এক-এগারোর পট পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

​চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি প্রসঙ্গে

চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, “বিএনপির সবাই চাঁদাবাজি করেন না—এটা সত্য। কিন্তু যারা চাঁদাবাজি করেন, টেন্ডারবাজি করেন এবং অফিসগুলোকে দলীয়করণ করছেন, তারা প্রত্যেকেই বিএনপির।”

​প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাত্রা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যাভ্যাস ও কম ঘুমানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কম ঘুমান এবং সাধারণ খাবার খান। কিন্তু তার আশপাশের বেতনভুক্ত চামচারা বিষয়গুলোকে সেলিব্রেট করেন। প্রধানমন্ত্রীকে এই অস্বাস্থ্যকর ব্যস্ততায় রেখে সালাহউদ্দিনরা লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে ঘের দখল ও এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে বসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

​মোহাম্মদপুরবাসীর প্রতি আহ্বান

মোহাম্মদপুরবাসীর উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এটি একটি নাগরিক সমস্যা-জর্জরিত এলাকা। এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের ভয়ের সংস্কৃতি ভেঙে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মজলুম যখন নিশ্চুপ থেকে একটি ‘উহ্’ উচ্চারণ করে, সেটাই জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে লেখা হতে থাকে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর