পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আইজিপিকে ‘নতুন বেনজীর’ উল্লেখ করে তিনি ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মুগদায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আইজিপির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন বলেন, সরকারের নির্দেশে ক্রসফায়ার চালানোর কথা বলা উদ্বেগজনক। এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে পুলিশের ওপর আবারও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পুলিশের ভাবমূর্তি ও প্রতিষ্ঠানটির সুরক্ষার স্বার্থে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
নাসীরুদ্দীন বলেন, জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সংসদে তুলে ধরেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রতি মাসে গ্যাসের বিল দিয়েও অনেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের কষ্টের কারণেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে।
সরকারদলীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, অটোরিকশা ও দোকান থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আগে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ শোনা গেলেও বর্তমানে ছাত্রদলের নামও একই ঘটনায় উঠে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয় ব্যক্তিদের অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। এসব ঘটনার কারণে অপরাধী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানান নাসীরুদ্দীন। তাঁর অভিযোগ, সংবাদপত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সাংবাদিকেরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটিতে রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে দাবি করা হয়নি।
এসআর