তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাসহ সংবিধানের আরও দুটি বিশেষ অনুচ্ছেদ
সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছিল বিএনপি। ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যেন চাইলেই এসব বিধান এককভাবে পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোকে গণভোটের আওতায় আনার বিষয়ে দলটি জোর দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব তথ্য জানান।
এ দিনের সভায় দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন। বৈঠক প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিক প্রতিনিধিরা সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ও তফসিলের নানা বিষয়ে আলোকপাত করে নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তাদের লিখিত প্রস্তাবও জমা দিতে বলা হয়েছে। এসব মতামত কমিটিতে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলকে এই কমিটিতে যুক্ত হতে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এখনো স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে কমিটি। তারা আলোচনায় অংশ নিলে নিজেদের দলীয় অবস্থান ও প্রস্তাবগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারতেন, যা সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য গঠনে সহায়ক হতো।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু কোনো বিভক্তি কাম্য নয়। যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে। এর পাশাপাশি যেসব বিষয় আলোচনার বাইরে রয়ে গেছে, সেগুলোও সর্বসম্মত আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে।
জুলাই সনদ ও দলীয় ইশতেহারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকারের মূল অগ্রাধিকার হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। তবে নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনম্যান্ডেট পাওয়া গেছে, সেগুলোকেও সংবিধানে যথাযথভাবে স্থান দেওয়া হবে।
গণভোটের বাধ্যবাধকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনে গণভোটের নিয়ম রয়েছে। বিএনপির প্রস্তাব ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পাশাপাশি আরও দুটি অনুচ্ছেদকে এর অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো পরিবর্তন আনতে হলে সরাসরি জনগণের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। সংসদে সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সংবিধান অনুযায়ী যেসব অনুচ্ছেদে গণভোট প্রয়োজন, সেগুলোতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বিশেষ কমিটির কাজ শেষের সময়সীমা জানিয়ে সভাপতি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধনী বিল আনা হবে, যা বছরের প্রথম অধিবেশন অর্থাৎ জানুয়ারি সেশনে উত্থাপিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসআর