[email protected] রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নয় দফা না মানলে এক দফার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:০৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নয় দফা দাবি সরকার মেনে না নিলে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

একই সঙ্গে বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া মহানগরের মাটিডালি বিমান মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং নয় দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমরা বাধ্য হবো। এ আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা লড়াই করে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করব।”

 

বিকেল ৪টার দিকে লং মার্চের গাড়িবহর বগুড়ায় পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান। পরে মাটিডালি বিমান মোড়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম হয়। বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ি নিয়ে নেতাকর্মীরা লং মার্চে যোগ দেন।

 

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। জনগণের সেই রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠিত হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

 

জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বললেও বাস্তবে মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সারের দাম বেড়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটও তীব্র হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি নেই—এমন বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হচ্ছে। তার দাবি, দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের সুযোগ করে দিতেই এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনে চাকরির অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী দাবিতে তরুণরা জীবন দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী সন্তানের নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 

লং মার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের কর্মসূচি ঢাকা থেকে রংপুরমুখী হয়েছে। ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকামুখী লং মার্চ করা হবে। কোনো হুমকি-ধমকিকে তারা গুরুত্ব দেন না এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

 

এর আগে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে লং মার্চের গাড়িবহর বগুড়ার চান্দাইকোনায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের অভ্যর্থনা জানান। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ ১১টি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভা শেষে গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর