ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে
ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফেরা কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এর পেছনে যেমন সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা।
রাজনৈতিক স্টান্টবাজি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম মনে করেন, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা ও রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার কৌশল বা ‘স্টান্টবাজি’।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা: রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা না ফেরার বিষয়টি এখনও অনिश्चित। তবে তিনি ফিরলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
ব্যর্থ হলে ব্যাখ্যা দাঁড় করানো: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি না ফিরতে পারলে ট্রাভেল পাস কিংবা বিমানে নামার অনুমতি না পাওয়ার মতো যুক্তি হাজির করতে পারেন। তবে তা তার রাজনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে না।
আইনি জটিলতা ও ট্রাইব্যুনালের অবস্থান
গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকর: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম জানান, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে পা রাখলেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হবেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তার রায় কার্যকর করা হবে।
আপিলের সুযোগ শেষ: ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা হয়েছে, রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর কোনো সুযোগ থাকে না। নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার আর কোনো সুযোগ নেই।
প্রত্যর্পণ চুক্তি: বাংলাদেশ সরকার ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত আনার ব্যাপারে আগ্রহী।
এসআর