বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শোভাযাত্রা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়।
এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।
শহীদ মিনার থেকে যাত্রা শুরু করে শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন, উপাচার্যের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এসব প্ল্যাকার্ডে তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষকের উন্নয়ন, পল্লী অবকাঠামো, জনকল্যাণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ধারণা তৈরি করা এবং এসব কার্যক্রমের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
শোভাযাত্রায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, এতে প্রায় ৮০০ নেতাকর্মী অংশ নেন।
সমাবেশে তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন বলতে শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণকে বোঝায় না। কৃষকের জীবনমানের পরিবর্তন, তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়নে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন এবং পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের মতো উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব রয়েছে।
তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, কৃষকের শ্রম ও উৎপাদন দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।
তাই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যেখানে তরুণরা ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হবে না, কৃষক তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না এবং কোনো পরিবার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকবে না।
উন্নয়নের সুফল রাজধানী ও বড় শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে তিনি বিভেদ ভুলে সবাইকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা জানান, দেশের উন্নয়ন, তরুণদের সম্ভাবনা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতেও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসআর