[email protected] সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করছে বিএনপি, ঘোষণা ১২ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ আগষ্ট ২০২৬ ৮:০৪ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন সিনিয়র সদস্য।


বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে বিএনপি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজনকে বসাতে চায়, যিনি রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ, সংকট মোকাবিলায় বিচক্ষণ এবং বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্য। এ বিবেচনায় মির্জা ফখরুলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।


দলের মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা, দলের বক্তব্য জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মির্জা ফখরুল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় এবং জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টাতেও তার ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন দলের নেতারা।


দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অপেক্ষাকৃত সংযত বক্তব্য, ভদ্র আচরণ ও শান্ত রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিএনপির কঠিন সময়েও দলকে সাংগঠনিকভাবে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা।


খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং তারেক রহমানের দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থানের সময়েও দলীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন মির্জা ফখরুল। মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় বিএনপির ভেতরে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।


দলটির সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালনের দাবি রাখে। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তুলনামূলক মধ্যপন্থী অবস্থান তাকে এ পদের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। কূটনৈতিক মহলে তার পরিচিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা


১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভূমিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন।


শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। সরকারি পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরেও নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।


১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর বারীর পদত্যাগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন। পরে আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করেন।


২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরবর্তী সময়ে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন


সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর