জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
তাঁর ভাষায়, গণঅভ্যুত্থান ‘নিউটনের আপেলের মতো হঠাৎ করে’ ঘটেনি; দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এর ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবকিছু সীমাবদ্ধ ছিল—এমন ধারণা রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্বতার পরিচয়।
এর পেছনে দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ভূমিকা রয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন ধারার রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর অনেক বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। রাজনীতির পথ কঠিন ও কণ্টকাকীর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পথে সফল হতে হলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক চর্চা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি’ আর গ্রহণযোগ্য হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে কেউ নতুন দল গঠনের চেষ্টা করলে সেই উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেকে প্রকাশ্যে আবার কেউ আড়ালে থেকে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ভবিষ্যতে সংসদ ও রাজপথে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যা ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা ব্যবহারের রাজনীতিও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা ‘চেতনার রাজনীতি করতে করতে’ বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রতিহিংসার বিষয় নয়; তবে কেউ অন্যায় করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের নজরদারির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন উপাচার্য। সে সময় শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেননি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সংকট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রাজপথে ভূমিকা রেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও জাতীয় স্বার্থে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের ভূমিকা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে মতামত দেন।
এসআর