জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে সময় খুব বেশি নেই।
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন না এলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি দাবি করেন, অতীতে জনমতের চাপে সরকার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনমতকে অবহেলা না করে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত। অন্যথায় জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হতে পারে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে রাজনৈতিক দাবি আদায়ে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। ভয়ভীতি বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মসূচি থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদও বক্তব্য দেন।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কয়েকজন ব্যক্তির অতিরিক্ত প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন এবং সেগুলোকে বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেন।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মতামত প্রকাশ স্বাভাবিক বিষয়।
সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় সংসদে বিরোধী মত প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজপথেই সক্রিয় থাকতে হচ্ছে।
এ সময় তিনি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নির্বাচনের পর এসব অনিয়ম কমবে বলে সাধারণ মানুষ আশা করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এসআর