আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদ একটি পরিচিত নাম। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালনকারী নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ অন্যতম ছিলেন। পরবর্তীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিতি পান।
তবে আশির দশকের শেষভাগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রের মতে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী সময়ের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে প্রশ্ন ছিল, যা পরবর্তীকালে সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি। অনেকের মতে, এটি তার রাজনৈতিক হতাশার একটি কারণ ছিল। পরবর্তী সময়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পরে উপদেষ্টা পরিষদে দায়িত্ব পেলেও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব আগের মতো ছিল না।
২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগের ভেতরে সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপনকারী নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদও ছিলেন। এ কারণে তিনি ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিত হন এবং দলীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেষ সময় পর্যন্ত দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক সহকর্মীদের মতে, দলীয় রাজনীতিতে নানা হতাশা থাকলেও তোফায়েল আহমেদ তার আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে যাননি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন আন্দোলন-সংগ্রামের নেতা হিসেবে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এসআর