[email protected] শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

"ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু বার সিদ্ধান্ত চাপাতে পারে না" — ড. শামারুহ মির্জা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬ ৬:৩৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা বলেছেন, কোনো আইনজীবী ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে রামিসার হত্যাকারীর পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। তবে কোনো আইনজীবী সমিতি বা 'বার' প্রাতিষ্ঠানিকভাবে

 এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। শুক্রবার (২২ মে) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে যে কেউ ধর্ষককে শাস্তি দেওয়ার কথা বলতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র এমন আচরণ করতে পারে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো জঘন্যতম অপরাধীরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত ও সঠিক বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

​শরিয়া আইন ও অপরাধ দমনের প্রসঙ্গ টেনে শামারুহ মির্জা বলেন, অনেকের ধারণা শরিয়া আইন কার্যকর করলেই ধর্ষণ কমে যাবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ইউরোপের অনেক দেশে শরিয়া আইন ছাড়াই অপরাধের হার শূন্যের কোঠায়, আবার অনেক মুসলিম দেশে এই আইন থাকার পরও অপরাধ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিকাংশ শিশু নিজেদের ঘরে, আত্মীয় বা প্রতিবেশীর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এমনকি রাজধানী ঢাকার গাউসিয়া মার্কেটের মতো জনাকীর্ণ স্থানেও নারীদের প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হতে হয়, যা সমাজ ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার এক অন্ধকার দিককে উন্মোচন করে।

​তিনি আরও বলেন, শুধু আইন দিয়ে সমাজের এই গভীর ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। ক্যান্সার নিরাময়ে যেমন একাধিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তেমনি ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—পেডোফিলিয়া বা শিশু নির্যাতনকে আলাদা ক্যাটাগরি করে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় আনা, মাদ্রাসার কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, মাদক ও সীসার ক্ষতিকারক প্রভাব দূর করা, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করা এবং পর্নোগ্রাফি বন্ধ করা। এছাড়া স্কুল-কলেজে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতায় নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করা জরুরি।

​উন্নত দেশের উদাহরণ দিয়ে ড. শামারুহ বলেন, অপরাধ দমনে সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো সেখানে একসঙ্গে কাজ করে এবং সামাজিক আন্দোলনগুলোতে অর্থায়ন করা হয়। পেডোফাইল বা শিশু নির্যাতনকারীদের শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষায়িত পুলিশ টিম কাজ করে। বাংলাদেশেরও উচিত সাইবার সিকিউরিটি টিম গঠন এবং দক্ষ জনবল তৈরি করা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে তৎকালীন হাসিনা সরকার বিরোধী দল দমন এবং গুম-খুনেই ব্যস্ত থাকায় এসব সামাজিক সংস্কারের কাজ শুরুই করা হয়নি। তবে বর্তমানে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​পোস্টের শেষ অংশে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ ও তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা কোনো প্রকার হুজুগে না মেতে 'মব জাস্টিস' বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে বর্জন করেন। তিনি সবাইকে সুস্থ ধারার রাজনীতি করার তাগিদ দিয়ে সতর্ক করেন যে, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে কেউই রক্ষা পাবে না; যেমনটা বিগত সরকারও পায়নি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর