দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় এগিয়ে আসতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে সি-স্টেজে রয়েছে। এ পর্যায়ে প্রতিটি কারিগরি ধাপ সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির তাপীয় সক্ষমতা ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হলে উৎপাদিত বাষ্পের মাধ্যমে টারবাইন চালানো হবে। এরপর জেনারেটর সচল করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা যাচ্ছে না। কারণ, পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে প্রতিটি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কোনো পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ খুলে আবার পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে। প্রয়োজনে একই কাজ একাধিকবার করতে হতে পারে। সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রকল্পের কারিগরি অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, একটি ভিভিআর ভালভের ত্রুটি সমাধানে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশি ও রুশ বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উৎপাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানো কারিগরি কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ উৎস যুক্ত হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি চলমান বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এফ/ডি