[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রীষ্মের আগে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

 সক্ষমতা বাড়াতে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ব্যয়বহুল কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সাশ্রয়ী ও টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

 

বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থায় ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের বিভিন্ন সরকারের নীতিগত দুর্বলতার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রভাবও এখন দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকারকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

 

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি হিসেবে ৪৩ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে অতিরিক্ত ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি এবং দেশে উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

 

এ খাতে অর্থায়ন সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে সরকার। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা এবং আবাসিক ভবনের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সেই বিদ্যুৎ কিনবে সরকার।

 

নিজের বাসভবনেও সৌর প্যানেল স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখান থেকে উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

 

উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ

সোলার এক্সপোতে তিন শতাধিক তরুণ-তরুণীর নতুন উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থের অভাবে যেন সম্ভাবনাময় কোনো উদ্যোগ থেমে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

কৃষি খাতে বিদ্যুতের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের পরিবর্তে সৌরশক্তিচালিত পাম্প ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হিমাগার, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র শিল্পে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুক্ত আট হাজারের বেশি নতুন সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকদের নিয়মিত সেবা ও স্থাপিত সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

এ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের আলো পর্যাপ্ত থাকলে অপ্রয়োজনীয় বাতি ও বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়লে সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠবে।

এফ/ডি

সম্পর্কিত খবর