[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪:২১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে উৎপাদন ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন।

 আসন্ন রমজানের আগেই প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

 

দাম সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

 

সংগঠনটির যুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল উৎপাদনের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সয়াবিন তেলের বর্তমান দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন।

 

প্রস্তাবিত নতুন দাম

কোম্পানিগুলোর আবেদনে বিভিন্ন পরিমাণের সয়াবিন তেলের জন্য যে নতুন দাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তা হলো—

 

  • এক লিটার বোতলজাত তেল: ২০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১৮ টাকা।
  • পাঁচ লিটারের বোতল: ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা।
  • খোলা সয়াবিন তেল: প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা।
  •  

সংগঠনটির চিঠিতে ২৫ অক্টোবর থেকে নতুন দাম কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধিতে সম্মতি দেয়নি। ফলে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

 

বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভোক্তা সংগঠনের উদ্বেগ

ভোজ্যতেলের বাজারে বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের সয়াবিন তেলের বাজারের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ চার-পাঁচটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ সরবরাহ করে তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

তাঁর অভিযোগ, বড় কোম্পানিগুলো কখনো কখনো ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি করে। এতে সাধারণ ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েন। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যেও বাজারে তেল বিক্রির ঘটনা ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

ক্যাবের এই নেতা ভোজ্যতেলের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের কার্যকর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, প্রতি লিটারে ১৪ টাকা মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব। সরকারের অনুমোদন ছাড়া এটিকে চূড়ান্ত নির্ধারিত দাম হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

এসআর

সম্পর্কিত খবর