আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগে’ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বক্তব্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার ও তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৩৭টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, জাপানের পণ্যও বাংলাদেশের বাজারে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো এবং কাস্টমস ও করসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার জটিলতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব সমস্যা সমাধান করে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা এবং বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরিতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে জাপানের মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও বড় খুচরা বিক্রেতা কোম্পানিগুলোর কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপানের সহযোগিতা বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান ও উপগ্রহ প্রকৌশলে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
যোগাযোগ অবকাঠামো: দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে এলিভেটেড হাইওয়ে ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা প্রণয়নে জাপানের কারিগরি সহায়তা চান তিনি।
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভাষাগত দক্ষতা দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
বক্তব্যের শুরু ও শেষে জাপানি ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান জাপানকে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের নতুন উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
এসআর