[email protected] বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা জাপানের, সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৪৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনে নতুন সরকারের উদ্যোগে জাপানের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন।

 

চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর নিজের আনুষ্ঠানিক ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় এসব বিষয় তুলে ধরেন সানায়ে তাকাইচি।

 

জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের কার্যক্রমে তার দেশ দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

তাকাইচি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

 

বৈঠকে দুই নেতা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামে নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোর মাধ্যমে উদ্যোগটিকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশের বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর কথাও তুলে ধরেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই বাজার জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়াসহ বিভিন্ন সময়ে জাপানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদান তুলে ধরে দেশটিকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

সানায়ে তাকাইচি জানান, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো হবে। শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতি ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

 

দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বার্তা উঠে এসেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর