রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি জানান।
বৈঠকে মিয়ানমারের অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সংকট নিরসনে তিনি সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান।
রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপানের ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপানের সরকারি-বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। একইভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে জাপানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে প্রথম দিকেই স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান ছিল অন্যতম। এরপর থেকে দেশটি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন প্রত্যাশার ওপর প্রতিষ্ঠিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুই দফা জাপান সফর এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের দেখানো পথ অনুসরণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসআর