বাংলাদেশের বস্ত্রখাতের চাহিদা মেটাতে দেশের অভ্যন্তরেই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ
প্রকৌশলী গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে এ খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং। সাক্ষাতকালে বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বস্ত্র খাতকে দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যা দক্ষ জনশক্তির সঠিক ব্যবহার এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।
টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামাল প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি পরামর্শ দেন, দেশে তুলার উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর পথ বের করতে হবে। এজন্য কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের যৌথ সমন্বয়ের পাশাপাশি পাট, কলাগাছ, আনারসের পাতা এবং সিনথেটিক উৎস থেকে বিকল্প সুতা তৈরির গবেষণা আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বুটেক্সের প্রতিনিধিদল টেক্সটাইল ও পোশাকখাতের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক ল্যাব স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি, 'বিসিএস (টেক্সটাইল)' ক্যাডার চালু, বাজেট বৃদ্ধি এবং পূর্বাচলে বুটেক্সের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য জমি বরাদ্দের মতো একাধিক দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁদের দাবি ও প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া, আগামী বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বুটেক্সের দ্বিতীয় সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করার জন্য উপাচার্যের আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রতিনিধিদলে বুটেক্সের বিভিন্ন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির অংশ নেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
এসআর