[email protected] মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

অস্ত্র হাতে অভিযানের সমালোচনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৫০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায়

 চরম বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ঘটনার দুদিন পর সমালোচনার জবাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। একইসঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

​সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন গেন্ডারিয়ার ওই নির্দিষ্ট মাদক স্পটে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে লোকবল সংকট ও ইকুইপমেন্টের অভাবে পুলিশ পূর্বের জায়গায় ফিরতে পারেনি। এর আগে ছাদ থেকে গুলির ঘটনা ঘটায় পুলিশ ওই এলাকায় যেতে ভয় পেত। ফলে এলাকার জনগণের চাপে বাধ্য হয়েই তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এই সামাজিক উদ্যোগে নামেন।

​এদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অভিযানে যাওয়ার বিষয়টিকে মারাত্মক অনভিপ্রেত ও ‘অপরিপক্ব আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

​অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলে প্রশাসনিক উপায়ে ওসি পরিবর্তন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সুশাসনের পরিপন্থী। তবে প্রধানমন্ত্রী ইশরাককে পদত্যাগে বাধ্য করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং অন্যান্য মন্ত্রী-কর্মকর্তাদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইশরাকের উত্থাপিত অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

​অপর নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র নিয়ে লোকজনকে ধাওয়া করার ঘটনা দল ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

​সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, সীমিত সামর্থ্যের ভেতরে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তবে সীমান্ত দিয়ে মাদক আসার বিষয়টি অন্যান্য এজেন্সির এখতিয়ারভুক্ত।

এসআর

সম্পর্কিত খবর