ঢাক-কাঁসরের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ধূপের সুবাসে মুখরিত চারপাশ। আড়ম্বরপূর্ণ আবহ ও ধর্মীয়
শুভ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানানোর পর শনি ও রোববার দুদিনব্যাপী পালিত হচ্ছে মহাসপ্তমী তিথি।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথির সমীকরণে এবার দুদিন ধরে মহাসপ্তমী চলবে। এরপরই শুরু হবে পূজার মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে ভক্তরা উপবাস থেকে দেবীর চরণে অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ করবেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে পূজার ছুটি ৩ দিন বৃদ্ধি করায় সাপ্তাহিক ছুটিসহ এবার টানা ৫ দিনের (২০ থেকে ২৪ অক্টোবর) দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে বলেন, আবহমানকাল ধরে সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে বাংলাদেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। দুর্গোৎসবের মাধ্যমে সমাজে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হোক—এ প্রত্যাশা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর শুভেচ্ছা বাণীতে উল্লেখ করেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারই সব ধর্মের মূল বার্তা। নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান।
মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ
শুক্রবার ষষ্ঠী তিথিতে সংকল্প গ্রহণ ও 'বিল্ববৃক্ষ' বা বেলগাছের নিচে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় 'কল্পারম্ভ'। সন্ধ্যায় বোধন ও অধিবাসের পর দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ প্রতিমা মণ্ডপে মণ্ডপে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির, বরোদেশ্বরী মন্দির এবং পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারসহ দেশজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। বিশেষ নজর কেড়েছে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের ‘জলজ’ থিম। শিল্পী পার্থ জানান—পানি থেকে সৃষ্টির উৎপত্তি, তাই মা দুর্গার আগমন ও গমনকে প্রতীকী করে এই শৈল্পিক রূপ দেওয়া হয়েছে।
সংখ্যা ও সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে:
মণ্ডপের সংখ্যা: গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১,৫০০টি মণ্ডপ বেড়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩,৮৫১টিতে।
সরকারি অনুদান: এ বছর অনুদান ১ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
গমনাগমন: পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং প্রস্থান নৌকায়।
এসআর