[email protected] সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্গোৎসব শুরু: শনি ও রোববার মহাসপ্তমী, বাড়তি ছুটির আনন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৫৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

ঢাক-কাঁসরের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ধূপের সুবাসে মুখরিত চারপাশ। আড়ম্বরপূর্ণ আবহ ও ধর্মীয়

 শুভ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানানোর পর শনি ও রোববার দুদিনব্যাপী পালিত হচ্ছে মহাসপ্তমী তিথি।

​বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথির সমীকরণে এবার দুদিন ধরে মহাসপ্তমী চলবে। এরপরই শুরু হবে পূজার মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে ভক্তরা উপবাস থেকে দেবীর চরণে অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ করবেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে পূজার ছুটি ৩ দিন বৃদ্ধি করায় সাপ্তাহিক ছুটিসহ এবার টানা ৫ দিনের (২০ থেকে ২৪ অক্টোবর) দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

​ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

​শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

​রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে বলেন, আবহমানকাল ধরে সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে বাংলাদেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। দুর্গোৎসবের মাধ্যমে সমাজে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হোক—এ প্রত্যাশা জানান তিনি।

​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর শুভেচ্ছা বাণীতে উল্লেখ করেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারই সব ধর্মের মূল বার্তা। নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান।

​মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ

​শুক্রবার ষষ্ঠী তিথিতে সংকল্প গ্রহণ ও 'বিল্ববৃক্ষ' বা বেলগাছের নিচে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় 'কল্পারম্ভ'। সন্ধ্যায় বোধন ও অধিবাসের পর দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ প্রতিমা মণ্ডপে মণ্ডপে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

​রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির, বরোদেশ্বরী মন্দির এবং পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারসহ দেশজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। বিশেষ নজর কেড়েছে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের ‘জলজ’ থিম। শিল্পী পার্থ জানান—পানি থেকে সৃষ্টির উৎপত্তি, তাই মা দুর্গার আগমন ও গমনকে প্রতীকী করে এই শৈল্পিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

​সংখ্যা ও সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি

​বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে:

​মণ্ডপের সংখ্যা: গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১,৫০০টি মণ্ডপ বেড়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩,৮৫১টিতে।

​সরকারি অনুদান: এ বছর অনুদান ১ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

​গমনাগমন: পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং প্রস্থান নৌকায়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর