সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলা ও এর জেরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বার্তায় জানায়, বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনা অনুসারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে বিনা খরচে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিকল্প ফ্লাইটে আসন পাওয়া গেলেই কেবল এ সুবিধা মিলছে। ফলে অনেক যাত্রী টিকিট পরিবর্তনের পরও দ্রুত যাত্রার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে যাতায়াত করা হয়। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে এসব গন্তব্যের একাধিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বর্তমানে উড়োজাহাজের ওঠানামা চলছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দর দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে এয়ারলাইন্সগুলো। তবে বিকল্প রুটে আগে থেকেই বুকিং থাকায় নতুন যাত্রীদের আসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, তাদের টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পাঠাতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে আসন ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে। পরে তাদের পরবর্তী ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্মকর্তারা বলছেন, বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপরই টিকিট পরিবর্তনের বিষয়টি নির্ভর করছে। আগে থেকে বুকিং করা যাত্রীদের পাশাপাশি বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের জায়গা দিতে গিয়ে আসনসংকট দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা প্রবাসী কর্মীদের জন্য দ্রুত যাত্রার ব্যবস্থা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এসআর