[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

এনসিপির নেতৃত্বে বড় রদবদলের আভাস, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসছেন চার নেতা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২০ এএম

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে।

দলটির সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর এই উদ্যোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

তবে বর্তমান আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন তাঁদের পদেই থাকছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পুনর্গঠিত কমিটির ঘোষণা মঙ্গলবার অথবা বুধবার আসতে পারে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতাদের ভূমিকা ও সক্রিয়তা পর্যালোচনা করেই এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান ১১ পদকেন্দ্রিক ‘সুপার ইলেভেন’ কাঠামোর পরিবর্তে ছয়জনকে নিয়ে ‘সুপার সিক্স’ নেতৃত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি।

দলের শুরু থেকেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক, হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

অন্যদিকে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পান।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, দল গঠন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে চার নেতার ভূমিকা বিবেচনায় নিয়েই তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্ষদে থাকছেন বর্তমান শীর্ষ নেতারা

দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বরাতে জানা গেছে, এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে বর্তমানে ১৬ জন সদস্য রয়েছেন।

আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদাধিকারবলে এই পর্ষদের সদস্য। পুনর্গঠনের পরও তাঁদের পাশাপাশি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকবেন বলে আলোচনা রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্ষদের অন্য ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।

তাঁরা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

নতুন কাঠামোয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবদের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে।

দলের সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সেলের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বও তাঁদের ওপর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

১১ পদ থেকে ছয় পদে সীমিত করার পরিকল্পনা

এনসিপির বিদ্যমান শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামোয় আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখ্য সমন্বয়ক, দুই মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক—এই ১১টি পদ রয়েছে। দলীয়ভাবে এ কাঠামো ‘সুপার ইলেভেন’ নামে পরিচিত।

পুনর্গঠনের মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্বের পরিসর ছয়টি পদে সীমিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারিতেও এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের আলোচনা হয়েছিল।

সে সময় দলের কার্যক্রমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

২০২৭ সালের শুরুতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে তখন কাঠামোগত পরিবর্তন কার্যকর হয়নি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে দলের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরবর্তী সময়ে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ায় তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনের জন্য বিভিন্ন পদ সৃষ্টি করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নেতাদের কাজের মূল্যায়নও এই পরিবর্তনের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।

কেউ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও কারও সক্রিয়তা প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। এসব দিক পর্যালোচনা করেই নেতৃত্ব ও দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর