[email protected] শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচ নয়, সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:২৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি মনে করেন, সুস্থতার পূর্ণাঙ্গ ধারণায় শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক, আত্মিক ও সামাজিক ভালো থাকাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

 

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার দিবসটি পালিত হবে।

 

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসাসেবার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের সম্মান, পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামগ্রিক কল্যাণ জড়িত। মানসিক সমস্যায় থাকা কাউকে অবহেলা কিংবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শোনা: বাস্তব কণ্ঠস্বর, বাস্তব পরিবর্তন’। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং গুরুত্ব দিয়ে শোনার মাধ্যমেই ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।

 

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা, টেলি-কাউন্সেলিং সেবা বিস্তৃত করা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

এ ছাড়া গর্ভবতী নারী, শিশু-কিশোর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের প্রতি সহমর্মিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার, পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ দ্বিধায় পড়বেন না এবং সহায়তা চাইতে লজ্জা অনুভব করবেন না।

 

বাণীর শেষাংশে তিনি দেশ-বিদেশের সবার সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন এবং বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬-এর সফলতা প্রত্যাশা করেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর