[email protected] মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:২৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং দেশের বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অবস্থানই প্রতিফলিত হয়েছে।

 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

হুমায়ুন কবির বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের কিছু অভ্যন্তরীণ নীতির বিষয়, বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা, ফিলিস্তিন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় এবারের অধিবেশন দেশের জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করেছে।

 

তিনি বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। চার দিনের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে দেশে পৌঁছান।

 

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ, সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছিল।

 

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী সংকট সমাধানে একটি বাস্তবসম্মত পথনকশার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংলাপ এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

 

২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

 

একই দিন বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও জবাবদিহির দাবি জানান তিনি।

 

সফরকালে তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

 

হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি ব্রাজিল ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২, পররাষ্ট্র সচিব এবং সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরাও বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

তিনি বলেন, এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

জাতিসংঘ সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কোনো বৈঠক হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেটার সঙ্গে বৈঠকে প্রযুক্তি, এআই এবং সমাজে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

 

এদিকে ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে খোলামেলা পরিবেশে চুক্তি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে চারজন মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী বিমান কেনা হবে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে মিশ্র বহর প্রয়োজন। বর্তমানে বোয়িং কেনা হচ্ছে, ভবিষ্যতের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ অনুবিভাগ) এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর