বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণ ও নতুন রুট চালুর প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতে ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, দেশের এভিয়েশন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ফলে যাত্রী ও রুটের চাহিদা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বোয়িংয়ের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।
তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে। বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরেন মাহদী আমিন।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজন হলে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
একই সঙ্গে নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়—দুই পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’
চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিন কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এসআর