[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বেনাপোল দিয়ে বন্ধ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি, ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

ভারত থেকে ইলিশ আনার জন্য দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিল ঘোষণা করেছে

 মৎস্য অধিদপ্তর। এর মধ্য দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশ আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। নতুন করে আর কোনো ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

​গত মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা এক চিঠিতে এই ১০৩টি এনওসি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে এই অনাপত্তি সনদের অধীনে ইলিশ আমদানির সব প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে বুধবার এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পান বেনাপোল স্থলবন্দরের কোয়ারেন্টিন ও মৎস্য মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

​বন্দর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল মৎস্য অধিদপ্তর। এর বিপরীতে বুধবার পর্যন্ত ৫৩৫ টন ইলিশ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে এসে পৌঁছায়। অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত আমদানি করা ইলিশের পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে ভারতের গুজরাটের ভারুচ এলাকা থেকে।

​এর আগেই দেশে উৎপাদিত ইলিশ ছাড়াও রুই, কাতলা, আইড় ও বোয়ালের মতো দেশীয় জাতের মাছ বিদেশ থেকে না এনে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছিল মৎস্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও অতীতে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি।

​প্রাপ্ত তথ্য ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে স্থানীয় মাছের আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়।

​ওই চিঠিতে দেশীয় মৎস্য খাতের সফলতার চিত্র তুলে ধরে আমদানি নিয়ন্ত্রণের যুক্তি উপস্থাপন করে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মোট ৫০ দশমিক ১৮ লাখ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে, যার ৩৭ দশমিক ০৬ শতাংশই (১৮.৬০ লাখ টন) কার্পজাতীয় মাছ। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯০ হাজার ৬২০ টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে রাষ্ট্র ৬ হাজার ১৪৪ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর জীবিকা নির্বাহ করছে।

​তবে ইলিশসহ যেকোনো দেশীয় মাছের আমদানি একতরফাভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি কিছুটা জটিলতা তৈরি করছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘জেনারেল অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেড’-এর ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো শুল্ক বা কর ব্যতিরেকে কোনো পণ্যের আমদানি-রপ্তানির ওপর কোটা, লাইসেন্স বা শর্ত জুড়ে দিয়ে ঢালাওভাবে পরিমাণগত নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে না। নীতিগত এই সুরক্ষার কারণে যেকোনো বাণিজ্যিক পণ্য ঘোষণা দিয়ে হুট করে বন্ধ করার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর