[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউপি নির্বাচনের সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত, বাড়ল জামানত ও ব্যয়সীমা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:১২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নতুন নিয়মে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমাও আগের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

 

সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য নির্বাচনি হলফনামা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে প্রার্থীর টিআইএন, দেশে ও বিদেশে থাকা নিজের এবং নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণ, আয়করসংক্রান্ত তথ্য এবং তিনি কোনো মামলায় ফেরারি আসামি কি না—এসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

 

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে জামানত ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জামানত ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে।

 

একই প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না।

 

বাড়ল নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা

চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রেও ব্যয়সীমা ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য তফসিলি ব্যাংকে পৃথক হিসাব খুলতে হবে। সব ধরনের নির্বাচনি ব্যয় ওই হিসাবের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছে।

 

নির্বাচনের আগে প্রচারণায় ২০২৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার নিয়ম মানতে হবে। ওই বিধিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

 

১৫ শতাংশের কম ভোট পেলেই জামানত বাজেয়াপ্ত

নতুন নিয়মে কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে জামানত ফেরত পাবেন। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হবে। আগের বিধানে এ সীমা ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

 

জামানত ফেরত পাওয়ার পরও কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে ফল প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে অর্থ গ্রহণ না করলে সেই টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর হলফনামায় সম্পদের তথ্য

 

চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা দিতে হবে। এতে প্রার্থী ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ, আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র এবং টিআইএন নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

এ ছাড়া প্রার্থী কোনো মামলায় ফেরারি আসামি কি না, সেটিও হলফনামায় ঘোষণা করতে হবে।

 

হুমকি বা বাধা দিলে প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে কমিশনের।

 

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো, আঘাত করা কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করাও বিধিমালার আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

অনিয়ম হলে কেন্দ্রের ফল স্থগিত বা পুনঃভোট

বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলে কমিশন সেই কেন্দ্রের ফল স্থগিত করতে পারবে। তদন্তের পর প্রয়োজন হলে কেন্দ্রটির নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া যাবে।

 

সমান ভোটে হবে পুনঃভোট

দুই বা তার বেশি প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে এবার লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণের সুযোগ থাকছে না। এ ক্ষেত্রে সমান সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে। এ জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে নির্বাচন কমিশন।

 

প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য সহায়তার বিধান

দৃষ্টি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা অন্য কোনো কারণে সহায়তা প্রয়োজন এমন ভোটারকে ভোটদানে সহযোগিতার জন্য অন্তত ২১ বছর বয়সী একজন সহায়তাকারী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

ভোটার নিজে ব্যালটে প্রতীক চিহ্নিত করতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী তা করতে পারবেন। তবে সহায়তাকারী প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। ভোটারের পছন্দের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও তাকে নির্দেশনা দিতে হবে।

তদারকিতে মনিটরিং কমিটি

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণে প্রয়োজন অনুযায়ী মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া কোনো কার্যক্রম বাতিল হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাদের উপস্থিতি নিশ্চিতের চেষ্টা করবেন এবং অনুপস্থিতির কারণ কমিশনকে জানাবেন।

নির্দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন

সংশোধিত বিধিমালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে।

চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদের প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি ট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সাধারণ সদস্য পদের প্রতীক হলো উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য রাখা হয়েছে আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।

এসআর

সম্পর্কিত খবর