ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে দেশটির সরকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিয়ামের নিয়োগে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তার নিয়োগ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তাও দূর হলো।
আসাদ আলম সিয়াম দিল্লিতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৯৯৫ সালে বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন আসাদ আলম সিয়াম। পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের জুনে তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে সিয়াম অস্ট্রিয়া ও ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এ ছাড়া ইতালির মিলানে কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যে সহকারী হাইকমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে বিভিন্ন কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রটোকল প্রধান, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) উইংয়ের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র সচিবের দপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভারত সাবেক মন্ত্রী ও রাজনীতিক দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন দূত হিসেবে পাঠানোর পর বাংলাদেশও দিল্লিতে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের একজন কূটনীতিককে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে টানাপড়েন দেখা দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়।
তবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এখনো দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্বস্তির বিষয় হিসেবে রয়েছে।
এসআর