[email protected] মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ছাড়ে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা।

 

এর আগে ঢাকা থেকে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের যাত্রা শেষে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ইস্তাম্বুলে অবতরণ করে। সেখানে প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতির পর নিউইয়র্কের উদ্দেশে উড়াল দেয় ফ্লাইটটি। নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রায় তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নেওয়া হবে। সফরকালে তিনি ওই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

 

সফরের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। ওইদিন জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। একই দিনে বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন।

 

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি। একইদিন সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

এ ছাড়া বাংলাদেশ আয়োজিত মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দক্ষ ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগ তুলে ধরবেন তিনি।

 

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সফরে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর