[email protected] সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়লো ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে আবারও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

এতে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো মূল্যবৃদ্ধি দেশে সমন্বয় করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক কম রাখায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়।

একই সময়ে কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

পরে জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর দাম পরিবর্তন করা হয়নি।

ডিজেলে বিপিসির বড় লোকসান

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী ডিজেল বিক্রিতে প্রতি লিটারে বিপিসির প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে।

এতে প্রতিদিন সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। একই হারে লোকসান চলতে থাকলে শুধু ডিজেল খাতেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে।

লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে দাম বাড়ানোর ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির ব্যয়ও বেড়েছে। দেশে তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রি অব্যাহত থাকায় সংস্থাটির আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

বিপিসিকে আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত

জ্বালানি তেল আমদানি স্বাভাবিক রাখতে বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিপিসির ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে।

এই অর্থ দিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হলেও অক্টোবর থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে অর্থসংকট দেখা দিতে পারে।

বছরের শুরুতে কমেছিল দাম

চলতি বছরের শুরুতে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মার্চে এসব দামে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

এপ্রিলের সমন্বয়ে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বা ১৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ টাকা বা ১৬ দশমিক ০৭ শতাংশ, পেট্রল ১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং অকটেন ২০ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বাড়ানো হয়।

জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়।

ওই দফায় বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৫, ৩ দশমিক ৭০ ও ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর তিন মাস দাম অপরিবর্তিত ছিল।

সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার ফলে পরিবহন, কৃষি এবং পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর