জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর উপলক্ষে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও তাকে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। ওইদিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন।
সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অনুষ্ঠিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
এরপর বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচিতেও ওইদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের সভার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এসব কর্মসূচিতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের দাবি তুলে ধরার কথা রয়েছে।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ।
ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। চলতি বছরের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে। এবারের অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
এসআর