[email protected] শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন পে-স্কেলে যেসব ভাতা ও ইনক্রিমেন্টের হার কমছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩:৪৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ধাপের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নতুন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কথা থাকলেও কয়েকটি ভাতার শতাংশ কমানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া ও বাংলা নববর্ষ ভাতা। একই সঙ্গে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হয়েছে। তবে মূল বেতন বৃদ্ধির ফলে ভাতার প্রকৃত অর্থের পরিমাণ আগের তুলনায় বাড়তে পারে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে বাড়তি বেতন একবারে দেওয়া হবে না; পর্যায়ক্রমে এর বাস্তবায়ন করা হবে।

 

প্রথম পর্যায়ে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। এই অর্থ ৩০ জুনে আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

 

দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে অতিরিক্ত মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির পুরো অংশ কার্যকর হবে।

 

নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার তারিখ ২০২৬ সালের ১ জুলাই হওয়ায় ওই সময় থেকে প্রাপ্য বকেয়া বেতনও দেওয়া হবে। তবে নতুন কাঠামোর অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। একই সঙ্গে পেনশনভোগীরাও নতুন কাঠামোর আওতায় সুবিধা পাবেন।

 

বাড়ি ভাতার শতাংশ কমছে

নতুন পে-স্কেলে পরিবর্তনের বড় অংশ রয়েছে বাড়ি ভাতা নিয়ে। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এ হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার উপজেলায় বর্তমানে বাড়ি ভাতা মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় এ হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

 

অন্যদিকে ঢাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে কর্মরতদের জন্য বর্তমানে মূল বেতনের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়ি ভাতা দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

তবে শতাংশের হিসাবে বাড়ি ভাতা কমলেও মূল বেতন বৃদ্ধির কারণে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।

 

নববর্ষ ভাতাতেও কাটছাঁট

বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা পান। নতুন বেতন কাঠামোয় তা ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই রাখা হচ্ছে। পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং সদর এলাকার বাইরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

হাওর, দ্বীপ ও চর ভাতার ক্ষেত্রেও মূল বেতনের ২০ শতাংশ হার বহাল থাকবে। এ ভাতার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষাসহায়ক, কার্যভার, আপ্যায়ন, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব এবং শ্রান্তি-বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ঝুঁকি ভাতাসহ কিছু বিশেষ ভাতার পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

উচ্চ গ্রেডে ইনক্রিমেন্টের হার কমছে

নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়।

নতুন কাঠামোয় ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ হার অপরিবর্তিত থাকছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের কাঠামো প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমমর্যাদার এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমমর্যাদার পদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর