[email protected] রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মেট্রোরেলের অতিরিক্ত খরচে ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে: আইপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:৫৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় কেবল মেট্রোরেলের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করায় মেগা প্রকল্পের

 নির্মাণ ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটির মতে, মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি সাশ্রয়ী ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার দিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

​শুক্রবার 'মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা' শীর্ষক এক অনলাইন সংলাপে বিশেষজ্ঞরা এই মতামত তুলে ধরেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি জানান, ঢাকার সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য মেট্রোরেল প্রয়োজন হলেও এটিকে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা ভুল। বিগত এক দশকে ঢাকার স্বাভাবিক বাস রুট রেশনালাইজেশন বা বাস ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি করা যায়নি, অথচ মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর নির্মাণ খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

​সংশোধিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেট্রো প্রকল্পগুলোর কিলোমিটারপ্রতি ব্যয়ে বিশাল ফারাক দেখা গেছে:

  • এমআরটি লাইন-১ (৩১.২৪ কিমি): মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যেখানে কিলোমিটারপ্রতি খরচ প্রায় ৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা।
  • এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (২০ কিমি): মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ কিলোমিটারপ্রতি খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।
  • এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (১৭.২০ কিমি): প্রস্তাবিত ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা, যেখানে কিলোমিটারপ্রতি খরচ প্রায় ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা।

​প্রকল্পগুলোর এই খরচ বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তারা জানান, কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইনে দ্রুতগতির কমিউটার ট্রেন চালানো কিংবা কুড়িল-পূর্বাচল রুটে কম খরচে বিআরটি (BRT) নির্মাণের মতো সাশ্রয়ী বিকল্পগুলো সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

​পরিবহন পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মুনতাসীর মামুন উল্লেখ করেন, বর্তমানে ঢাকার মোট যাত্রীর মাত্র ১ শতাংশ মেট্রোরেল ব্যবহার করে। পরিকল্পিত সব মেট্রো লাইন চালু হলেও এটি সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চাহিদা মেটাতে পারবে। ফলে বাকি সিংহভাগ যাত্রীর জন্য মানসম্মত বাস ও বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।

​বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, রাজধানীতে ক্রমাগত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও মানুষ আরও বেপরোয়াভাবে ঢাকামুখী হবে, যা ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।

​পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইপিডির পক্ষ থেকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

  • ​মেট্রোরেল প্রকল্পের দরপত্র, চুক্তি, পরিচালন ব্যয়, ঋণ পরিশোধের হিসাব ও বাজেট সংশোধনের কারণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও স্পষ্ট করা।
  • ​দেশীয় প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সব প্রকল্পের ব্যয় ও সম্ভাব্যতা পুনরায় যাচাই করা।
  • ​বাস রুটগুলোকে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতির আওতায় আনা এবং মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে ফুটপাত, সাইকেল পথ ও ফিডার সার্ভিস যুক্ত করা।

​নতুন কোনো বড় পরিবহন প্রকল্প অনুমোদনের আগে বিআরটি (BRT), এলআরটি (LRT) ও কমিউটার রেলের লাভ-ক্ষতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর