[email protected] শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু, আলোচনায় এমআরটি-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়।

সভায় রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন) নির্মাণ প্রকল্পটি কার্যতালিকায় রয়েছে।

১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

তবে আজকের সভায় প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রস্তুতিমূলক কাজের বড় অংশ এগিয়ে যাওয়ায় একনেকে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট উইং থেকে প্রকল্পটির ওপর উপস্থাপনাও প্রস্তুত করা হয়। তবে শেষ মুহূর্তে অনুমোদনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে এমআরটি-৫ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে বলে জানা গেছে।

একই সঙ্গে এর আগে অন্য একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশের অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রস্তাবিত এমআরটি-৫ রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কাওরান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দিতে পৌঁছাবে।

পুরো রুটে যাতায়াতে সময় লাগবে আনুমানিক ২৮ মিনিট। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড অন্তর ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার।

এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথ। পুরো রুটে থাকবে ১৫টি স্টেশন—১১টি পাতাল এবং চারটি উড়াল।

প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে গড়ে খরচ পড়ছে প্রায় ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। পাতালপথের অংশ বেশি হওয়ায় নির্মাণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে বেশি।

প্রাথমিকভাবে ছয় কোচের ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী পরিবহণের সক্ষমতা থাকবে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী এ রুট ব্যবহার করতে পারবেন।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহামদ বলেন, রাজধানীর যানজট কমাতে মেট্রোরেলের বিকল্প নেই। পর্যায়ক্রমে সব মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে এগোতে হবে। তবে সব রুট চালু হলে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে।

পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া এমআরটি-৫ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন করে বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানো হয়।

সর্বশেষ প্রস্তাবে ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের হিসাবের তুলনায় কমেছে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা প্রায় ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

তবে প্রকল্প ব্যয় কমার পুরোটা সরাসরি সাশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। বিদেশি ঋণের সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জের মতো কিছু আর্থিক দায় প্রকল্পের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর পরিশোধযোগ্য সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জ বাবদ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয়ের বাইরে রাখা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অর্থ বিভাগ এই অর্থ পরিশোধ করবে। ফলে প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় কমলেও সরকারের ওপর থেকে ওই আর্থিক দায় পুরোপুরি দূর হচ্ছে না।

এসআর

সম্পর্কিত খবর