[email protected] শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজেল পাম্পের বদলে সৌরচালিত সেচপাম্প দেওয়ার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:৩১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কৃষকদের সেচব্যবস্থায় ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত পানির পাম্প দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় বর্তমানে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়া হয়, সেগুলো ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে।


জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খান জানতে চান, সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে কৃষকদের বিনামূল্যে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা দেওয়ার কোনো উদ্যোগ সরকারের রয়েছে কি না।


জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজেলচালিত সব সেচপাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে।


এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


সরকারের প্রণীত জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সের মতো অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথাও সংসদে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম আমদানিতে শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যারা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিভিন্ন নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন, বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নেট মিটারিং, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অনশোর উইন্ডসহ বিভিন্ন নীতিমালা ও গাইডলাইন রয়েছে।


লিথিয়াম ব্যাটারিতে গুরুত্ব
সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুতের সংরক্ষণে ব্যবহৃত ব্যাটারি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের স্টোরেজে বর্তমানে লেড ও লিথিয়াম—দুই ধরনের ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে লেড ব্যাটারির ব্যবহার কমিয়ে লিথিয়াম ব্যাটারিকে উৎসাহিত করতে চায় সরকার।


তারেক রহমান বলেন, দেশে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। ভবিষ্যতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলকভাবে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।


তিনি বলেন, লেড ব্যাটারিতে অ্যাসিড ব্যবহৃত হওয়ায় এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই এ ধরনের ব্যাটারির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে চায় সরকার।


জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়। কার্যসূচি অনুযায়ী দিনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য এদিন আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন রাখা হয়। এর মধ্যে তিনটি মূল প্রশ্ন এবং সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসআর

সম্পর্কিত খবর