[email protected] শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩

সংসদে এসআরবি বিল উত্থাপন, বিলুপ্ত হচ্ছে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১:৩১ এএম

সংগৃহীত ছবি

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল সংসদে তোলা হয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

কমিটিকে চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

একই দিনে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬’ শীর্ষক আরও দুটি বিলও সংসদে উত্থাপিত হয়। এসব বিলও বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

এসআরবি বিল উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানান। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, র‌্যাব অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশ-বিদেশে সমালোচিত হয়েছে।

তাই নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন না করে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী র‌্যাব নামের বাহিনী বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তবে সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও জটিল অপরাধ দমনে একটি বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, নতুন বাহিনীতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং অভ্যন্তরীণ তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও র‌্যাব বিলুপ্তির পক্ষে মত দিয়ে বলেন, নতুন কোনো সংস্থা গঠনের আগে সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, এসআরবি হবে পুলিশের অধীন একটি বিশেষ ইউনিট। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করা যাবে।

এর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকবে এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিলে এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, মানবপাচার, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ইউনিটটি অপরাধ তদন্তও করতে পারবে।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা রাখার প্রস্তাব রয়েছে, তবে এসব ক্ষমতা প্রচলিত আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় প্রয়োগ করতে হবে।

বিলে সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি, শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধান বাতিল হবে এবং নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ আগের কিছু প্রশাসনিক বিধান কার্যকর থাকবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর