জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জানিয়েছেন, সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত পাম্পগুলোর পরিবর্তে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কৃষকদের পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প প্রদান করা হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জন করা। ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক থেকে ৪,৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ো, বর্জ্য ও ভাসমান সোলারসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ খাতকে উৎসাহিত করতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ইউনিট প্রতি সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াNet Metering Guideline, 2025 অনুযায়ী যারা আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাঠাবেন, তারা পরবর্তী ৩ বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে পাবেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নীতি ও গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে। সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার উৎসাহিত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট কলকারখানাকে সব ধরনের সহায়তা দেবে। তবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর লেড-এসিড ব্যাটারির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে রুফটপ সোলারের ক্ষেত্রে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত ৮টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ৩টি প্রশ্ন ও ৭টি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
এসআর