[email protected] বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

জামানত ছাড়াই তরুণ উদ্যোক্তাদের ১০ লাখ টাকা ঋণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ আগষ্ট ২০২৬ ১১:৫৬ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে ব্যবসা শুরু করতে না পারা তরুণদের সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) নেতাদের বৈঠকে এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে কর্মসূচির অর্থায়ন, উদ্যোক্তা নির্বাচন এবং ঋণ বিতরণের কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, তরুণদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন ও অনুদানভিত্তিক একটি প্যাকেজ তৈরির কাজ চলছে।

মূলধনের সংকটে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন।

ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ফলে প্রচলিত ব্যাংকঋণ বা এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের তুলনায় এ অর্থায়নের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হবে।

এ কর্মসূচির একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

অর্থাৎ জমি, বাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদ বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে তরুণরা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

শুধু ঋণ নয়, সফল উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদানের ব্যবস্থাও রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি ব্যবসার কার্যক্রম ও আর্থিক ফলাফল সন্তোষজনক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

সে ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া কোনো উদ্যোক্তা পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলা থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে। প্রথম পর্যায়ে অন্তত ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

উদ্যোক্তা নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নির্ধারিত কমিটি কাজ করতে পারে।

ব্যবসার সম্ভাবনা, উদ্যোক্তার দক্ষতা, উদ্যোগের বাস্তবতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রভাব বা তদবিরের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।

প্রস্তাবিত তহবিলের আওতায় উৎপাদন ও ব্যবসা—দুই ধরনের উদ্যোগকেই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এ কর্মসূচির সম্ভাব্য খাত হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহজ শর্তে অর্থায়নের মাধ্যমে তরুণদের নতুন ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হলে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি দেশের স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসতে পারে।

তবে কর্মসূচির চূড়ান্ত নীতিমালা, ঋণ বিতরণের শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া নির্ধারণের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর