[email protected] শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

তিন বন্ধ পাটকল ফের চালু হচ্ছে, বিনিয়োগ ৬১৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ আগষ্ট ২০২৬ ৭:৩২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে মিলগুলো বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

 

চুক্তির আওতায় সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেডের দায়িত্ব পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অপরদিকে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

 

চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে সই করেন।

 

চুক্তি অনুযায়ী, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি মিল পুনরায় উৎপাদনে ফেরানো হবে। এসব প্রকল্পে মোট প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলগুলো চালু হলে সরাসরি অন্তত ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তিন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সম্মিলিত বার্ষিক টার্নওভার ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

 

জাতীয় জুট মিলস

সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলস পুনরায় চালু করতে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদনে ফিরলে এখানে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হতে পারে। মিলটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

স্টার জুট মিলস

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে বিনিয়োগ করা হবে আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকা। মিলটি পুনরায় চালু হলে প্রায় ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

 

প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস

খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ইজারাগ্রহীতাদের কাছে সেগুলোর দখলও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব মিলের মধ্যে ৯টিতে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

 

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিজেএমসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর