[email protected] শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

র‍্যাবের পরিবর্তে ‘এসআরবি’ গঠনের প্রস্তাব

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ আগষ্ট ২০২৬ ১:৫৬ এএম

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পরিবর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ উদ্দেশ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

খসড়া আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে, নতুন ইউনিটটি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত হবে।

একই সঙ্গে এর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনা, তদন্ত কার্যক্রম, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনমত গ্রহণের পর খসড়াটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে।

এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় সংসদে আইনটি উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামোর পরিবর্তে এসআরবির নতুন আইন কার্যকর হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, এসআরবির প্রধান হবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক।

প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে এবং দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়।

এছাড়া পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে থাকবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, সাইবার অপরাধ, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ দমন।

প্রয়োজনে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও সহায়তা করবে ইউনিটটি।

এছাড়া আদালত, সরকার বা পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে সদস্যদের।

খসড়ায় তদন্তের জন্য অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ইউনিটটির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবে।

পাশাপাশি বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে এর অন্যতম লক্ষ্য।

খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

দায়িত্বে অবহেলা, মাদকাসক্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন, সরকারি সরঞ্জামের অপব্যবহার, বেআইনি অর্থ আদায় বা অন্যান্য অসদাচরণের ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাবের জনবল, সম্পদ, তহবিল, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অন্যান্য দায়-দায়িত্ব এসআরবির অধীনে স্থানান্তরের প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে বিদ্যমান কার্যবিধি বহাল রাখার কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্বিকভাবে খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাহিনীর নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলেও অপরাধ দমন, তদন্ত ও অভিযান পরিচালনার মৌলিক ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে জবাবদিহি বাড়াতে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা এবং সদস্যদের জন্য স্পষ্ট শৃঙ্খলাবিধি সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর